জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের ভিডিও ফাঁসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর একটি আপত্তিকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এক নারীর সাথে প্রতিমন্ত্রীর এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার তীব্র ঝড় উঠেছে।
ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। ঢাকার একাধিক সংবাদপত্রেও মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে— ভিডিওটি আসলে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে তার নির্বাচনি এলাকায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বুধবার রাতে পঞ্চগড় জেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, প্রতিমন্ত্রী যখন দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন, তখন তার জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে শিবিরের পেজ থেকে এআই ব্যবহার করে ছবি এডিট করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম কাচ্চু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলাসহ জেলা শহরেও যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গুনে গুনে ঘুষ নেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরাল
তবে প্রতিমন্ত্রীর এই দাবির পরদিন (২৯ জুলাই) ফ্যাক্টচেক ভিত্তিক পোর্টাল ‘দ্য ডিসেন্ট’ তাদের এক প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা পঞ্চগড় ও ঢাকার একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে ২০ সেকেন্ডের একটি শব্দহীন ভিডিও, ৫টি ছবি এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে। এরপর সেগুলো এআই কনটেন্ট চিহ্নিতকরণের একাধিক টুল দিয়ে যাচাই করা হয়। তবে কোনো টুলেই এগুলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ডিসেন্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশটের একটিতে থাকা মোবাইল নম্বরটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে যাচাই করে দেখা গেছে, সেটি প্রতিমন্ত্রীর নিজ গ্রাম পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের এক অমুসলিম নারীর নামে নিবন্ধিত। ওই নম্বরে কল করা হলে সংশ্লিষ্ট নারী স্ক্রিনশটের ছবিটি তার নিজের বলে স্বীকার করলেও, ভাইরাল হওয়া ভিডিও বা স্ক্রিনশটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। এছাড়া তার এক প্রতিবেশী ছাত্রের বরাতে জানা যায়, ছোটবেলায় ওই নারী বাবাকে হারানোর পর তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ডিসেন্টের প্রতিবেদক ওই নারীর সাথে কথা বলার ঠিক পরপরই, রাত ১০:০২ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীর নাম সংবলিত একটি নম্বর থেকে প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। পরদিন সকালে প্রতিবেদক পাল্টা কল করলে ওই ব্যক্তি সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর পরিচয় নিশ্চিত না করে বলেন, “আসেন, আমার দপ্তরে আসেন, চা খাই”।
পরবর্তীতে আবার ফোন করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে লাইনটি কেটে দেন। তবে এই বিষয়ে জানতে সরেজমিনে প্রতিমন্ত্রীর গ্রামের এলাকায় খোঁজ নেওয়া হলে, স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ দেখা যায় এবং নাম প্রকাশ করে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
সূত্র: আমার দেশ ও দ্য ডিসেন্ট

