প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের ঝুলে থাকা আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ সচিব, আইন সচিব এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ১৪ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী ২১ দিনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলোকে চিঠি দেবে, যাতে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রবাসীদের পাসপোর্ট আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রিটটি দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট নবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রবাসী ভিসা নবায়ন করতে পারছেন না। এতে তারা চাকরি হারানোর পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের জীবিকা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপরও।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার।
শুনানি শেষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, লাখ লাখ প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ পাসপোর্ট আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। আদালতের এই নির্দেশ তাদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
