Close Menu
Protibad News
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Protibad News
    • Home
    • জাতীয়
    • আন্তর্জাতিক
    • রাজনীতি
    • শিক্ষাঙ্গন
    • খেলা
    • বিনোদন
    Protibad News
    আলোচিত খবর

    আসাদুজ্জামানের যে ভয়ঙ্কর রূপের কথা কেউ জানে না

    By নিউজ ডেস্কAugust 12, 2026 10:43 PMNo Comments4 Mins Read
    Share Facebook Twitter Pinterest Telegram LinkedIn Tumblr Email Copy Link

    নীলফামারীর শান্ত সবুজ মাঠ আর তিস্তা নদীর তীরের মানুষরা একসময় শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করত। কিন্তু সেই শান্তি স্থায়ী হয়নি, প্রায় দুই দশক ধরে ভাঙচুরের শিকার হয় আওয়ামী লীগের ‘কসাই’ খ্যাত সংসদ সদস্য (এমপি) আসাদুজ্জামান নূরের সময়ে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৯৬ সাল থেকে জেলা রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা অসহিষ্ণু ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে পুরো এলাকাকে অস্থির করে তুলেছিলেন।

    নীলফামারী-২ (সদর) আসনের এমপি হিসেবে ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার সময়কালকে স্থানীয়রা বলেন, ‘ভয়ঙ্কর যুগ’। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সাধারণ মানুষও তখন রাতের আঁধারে নিজের বাড়িতে নিরাপদে ঘুমাতে পারত না। এমনকি কয়েকটি মসজিদে নামাজও বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠা’ তাণ্ডব শুরু হয় জলঢাকার পূর্ব বালাগ্রামে। সেখানে সাদের হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীকে হত্যা করা হয়। এরপর শুরু হয় পুলিশি অভিযান। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন, সাধারণ মানুষও নির্যাতনের শিকার হন। সাড়ে ১৫ বছরে জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে ১৩২টি মামলা হয়, আসামি ৪০ হাজারের বেশি। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা ৪৮টি, আসামি ৫ হাজারের বেশি। জেলা ও উপজেলা কার্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায়, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

    ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরে নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিশাল গাড়িবহর নিয়ে মহড়া দেন তৎকালীন এমপি আসাদুজ্জামান নূর। বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়ি অতিক্রম করার সময় পরিকল্পিতভাতে করা হয় হামলা। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে শুরু হয় সংঘর্ষ।

    পুলিশ ১৪১ রাউন্ড শটগান ও ৩৭ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সে ঘটনায় নিহত হন পাঁচজন, আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। তখনকার প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী কর্মীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। খবর ছড়িয়ে পড়ে রামগঞ্জ বাজারে। রাতে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টুর দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল শো-রুম, ওষুধের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

    রামগঞ্জ বাজারের সংঘর্ষে দুটি মামলা হয়। একটিতে থানার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বাদী হয়ে আসামি করেন ১৪ জনকে, অজ্ঞাত প্রায় দেড় হাজার। আরেক মামলায় বাদী নিহত কৃষক লীগ নেতা খোরশেদ আলম চৌধুরীর আত্মীয় রাশেদ চৌধুরী নামোল্লেখ আসামি করেন ৮৬ জনকে, অজ্ঞাত আরও দেড় হাজার। দুটি মামলার আসামিই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী।

    এসব মামলা পুঁজি করে পুলিশ গ্রেফতার অভিযানের নামে রীতিমতো ‘বাণিজ্য’ শুরু করে, অর্থ আদায় হয় লাখে লাখে। ফলে পুরো এলাকা ভয়ে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। রামগঞ্জ, জলঢাকা, টুপামারী, লক্ষীচাপসহ নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় তখন রাত মানেই আতঙ্ক। মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব কিছু প্রায় অচল। স্থানীয়রা আশ্রয় নেন পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে। পুলিশি অভিযানে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক সবাই হয়রানির শিকার হন।

    জামায়াত ও বিএনপির আটজন চাকরিজীবী বরখাস্ত হন। তৎকালীন সময়ের বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি মোজ্জাফর হোসেন ও তার ছেলে এনটিভির জেলা প্রতিনিধি ইয়াসিন মোহম্মাদ সিথুনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের নামে মামলা হয়, হতে হয় কারাবন্দি।

    এজাহারে নাম থাকা তিন নেতাকর্মী পরবর্তী সময়ে হত্যার শিকার হন। সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের ছাত্র এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিনোদপুর থানা শাখার সভাপতি মহিদুল ইসলামকে হারাতে হয় জীবন।

    গোলাম রব্বানীর স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, ‘তাকে আত্মীয়ের বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। আজও বিচার হয়নি।’

    আতিকুলের বড় ভাই আবদুল ওয়াদুদ জানান, আতিক ঘটনার পর লুকিয়ে ছিল। ১৩ জানুয়ারি রাতে ডিবি পরিচয়ে তাকে টাঙ্গাইল থেকে তুলে নেওয়া হয়। দু-তিন দিন পর লাশ পাওয়া যায়।

    নিখোঁজ মহিদুলের ভাই শহিদুল বলেন, মহিদুলের লাশ ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শিবগঞ্জে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়। পরে ছবি দেখে নেতাকর্মীরা তাকে শনাক্ত করে।

    জেলা জামায়াতের আমির ও নীলফামারী ১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, নূর ও তার অনুসারীরা জামায়াতের মেরুদণ্ড ভাঙতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন। তারাই আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক বলেন, রাজনীতির মূল্যবোধ ধ্বংস করা হয়েছে। ঘর, হাসপাতাল, চাকরি কিছুই নিরাপদ ছিল না।

    জানা যায়, রামগঞ্জ, টুপামারী ও লক্ষীচাপ বাজার ছয় মাসের বেশি সময় ফাঁকা ছিল। মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা হাতে গোনা। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।

    রামগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক ও আব্দুল ওহাব বলেন, রাতের আঁধারে আওয়ামী ক্যাডাররা দোকানের তালা ভেঙে সব পণ্য নিয়ে গেছে। পুলিশের সহায়তা চেয়েও পাইনি।

    নীলফামারীর শান্ত সবুজ ভূদৃশ্য আজও অপরূপ। কিন্তু সেসময়ের আতঙ্ক, হত্যা আর নিপীড়নের দাগ এখানকার মানুষের মনে আজও অম্লান। ‘কসাই নূর’ এর সেই দুঃশাসন ছিল শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ নয় এটি ছিল মানুষের জীবনের ওপর এক ভয়ঙ্কর ছায়া, যা নীলফামারীর ইতিহাসে গভীর কালিমা ছড়িয়ে গেছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Copy Link
    Previous Articleগ্রেপ্তার হতে পারেন ট্রাম্প!
    Next Article পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের মেগা উদ্যোগ, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন কত

    Related Posts

    রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ মার্কেট-শপিংমল, ৭টায় নিভবে আলোকিত বিলবোর্ড

    August 12, 2026 8:21 PM

    হামলার আশঙ্কা, সারাদেশের বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি

    August 12, 2026 8:10 PM

    বিকাশেই মিলছে ৫০ হাজার টাকা ঋণ

    August 12, 2026 7:59 PM
    Latest News

    সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না প্রধানমন্ত্রী, অনুসরণ মন্ত্রী-উপদেষ্টাদেরও

    পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের মেগা উদ্যোগ, সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন কত

    আসাদুজ্জামানের যে ভয়ঙ্কর রূপের কথা কেউ জানে না

    গ্রেপ্তার হতে পারেন ট্রাম্প!

    পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি

    যে কারণে হঠাৎ জাতিসংঘের সতর্কবার্তা জারি

    Facebook X (Twitter) Instagram
    © 2026 Protibad News

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.