স্টোর রুমে নিয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া ও অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে এক সাবেক ইউপি সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন শিশুটিকে ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং সহযোগিতাকারী সাবেক ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর দাদা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয় ছুটির পর তৃতীয় তলার স্টোর রুমে নিয়ে নাতনিকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য বাচ্চু এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মেম্বার রাতে ভুক্তভোগীর দাদা-দাদির বাড়িতে গিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

পরদিন সকালে ঘটনার বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক তাদের কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। পরে বাচ্চু মেম্বার, ফিরোজ মেম্বার ও নূরউদ্দিনের অনুসারীরা ভুক্তভোগী শিশুর মামা, দাদা ও দাদির ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন বলেন, তিনি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তার দাবি, বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে বহিরাগত লোকজন বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস চলাকালীন তার ওপর হামলা চালিয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।