মহাজাগতিক বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করায় চাঁদের প্রচ্ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো কয়েক মুহূর্তের জন্য বদলে যাবে গাঢ় অন্ধকারে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী আজ বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হবে গ্রহণ। তবে বাংলাদেশ থেকে এ গ্রহণ দেখা যাবে না।
এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে চাঁদের ছায়া উত্তর মেরুর কাছ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এসব অঞ্চলের অবস্থানভেদে সূর্য প্রায় ২০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিটেরও বেশি সময় পুরোপুরি আড়াল হয়ে থাকতে পারে।
পূর্ণগ্রাসের মূল পথের বাইরে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার আলাস্কা থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত কিছু এলাকা, কানাডার বেশির ভাগ অংশ, ইউরোপের বড় অংশ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চল থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।
বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে ইউরোপের কিছু এলাকা। স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশে সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে গ্রহণ দেখা যেতে পারে। ফলে সেখানে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সূর্যাস্তেরও বিরল দৃশ্য দেখা যাবে।
তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ সরাসরি আকাশে এ গ্রহণ দেখতে পারবেন না। প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই নাসার সরাসরি সম্প্রচারে বিশ্বের এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
নাসা জানিয়েছে, বুধবার ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিট (EDT) থেকে সূর্যগ্রহণের লাইভ সম্প্রচার শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তা শুরু হবে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। নাসার ওয়েবসাইটের নাসা লাইভ বিভাগে গিয়ে সরাসরি সম্প্রচারটি দেখা যাবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সরাসরি আকাশে গ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ভিউয়ার বা সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ নয়।

