আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দেবেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার ভোট দিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
রোববার (০৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, ‘যেসব সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেননি বা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, ভোটার তালিকায় নাম থাকলে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।’
এদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিরও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
ফলে আইন অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সংসদ সদস্য হিসেবে যারা বহাল রয়েছেন, তারাই আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারী বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
যেভাবে বহিষ্কার হন গাজী নজরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে গত ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
পরদিন ২৩ জুলাই দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে জানায় জামায়াত। একই সঙ্গে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
তবে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সে সময় বলেছিলেন, জামায়াত বহিষ্কার করলেও গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়।
