পরকীয়ার সন্দেহে ২৩ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেননি অভিযুক্ত; ফাঁসিতে ঝুলিয়ে স্ত্রীর তীব্র মৃত্যুযন্ত্রণার ভিডিও ধারণ করে বন্ধু ও পরিবারের কাছে পাঠান স্বামী। শুধু তাই নয়, ভিডিও কলে শ্বশুর-শাশুড়িকে মেয়ের শেষ মুহূর্তের অসহায়ত্বও দেখান তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের বাগালকোট জেলায়। নিহত ওই নারীর নাম ভাগ্যশ্রী জিগালুর। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী প্রবীণ জিগালুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কর্ণাটকের গালাগালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রবীণ প্রথমে একটি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে বাড়ির ভেতরে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন তাকে।
পুলিশের মতে, ভাগ্যশ্রী তখনও বাঁচার জন্য লড়াই করছিলেন। সেই অবস্থায় প্রবীণ তার স্ত্রীর ভিডিও ধারণ করেন এবং কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয়ের কাছে পাঠান। শুধু তাই নয়, ভিডিও কলে স্ত্রীর বাবা-মাকে যুক্ত করে মেয়ের শেষ মুহূর্ত দেখান।
তদন্তে আরও জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের কারণে প্রায় দুই মাস আগে ভাগ্যশ্রী স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবা-মায়ের কাছে চলে গিয়েছিলেন। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করার আশ্বাস দিয়ে প্রবীণ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু বাড়িতে ফেরার দিনই সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, সবুজ রঙের একটি ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করছেন ভাগ্যশ্রী। তার পায়ের নিচে একটি খাট ছিল, যেখানে নামার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন এবং ঘরের দেয়ালে বিয়ের সময় লেখা দম্পতির নামও দেখা যায়।Time & Calendars
খবর পেয়ে বিলাগি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযুক্ত প্রবীণ জিগালুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার আগে কী ঘটেছিল এবং পরকীয়ার সন্দেহের অভিযোগের সত্যতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

