হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ডাকযোগে কাফনের কাপড় ও হত্যার হুমকিসংবলিত চিঠি পাঠানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মীর খোরশেদ আলমসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত বুধবার (২৯ জুলাই) মাধবপুর ডাকঘরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা একটি পার্সেল আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পৌঁছায়। পরে চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলম পার্সেলটি খুলে দেখতে পান, এর ভেতরে পৃথক পৃথক নামে ১৩টি খাম রয়েছে। প্রতিটি খামের মধ্যে কম্পিউটারে টাইপ করা হুমকিমূলক চিঠি এবং একটি করে কাফনের কাপড়ের টুকরা পাওয়া যায়।
চিঠিতে মীর খোরশেদ আলমকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, চিঠি পাওয়ার পর তার হাতে আর মাত্র কয়েকদিন সময় রয়েছে এবং আগুন নিয়ে খেলার পরিণতি ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলী, আব্দুল গফুর, কন্ট্রাক্টর মিজান, বজলু, সৈয়দ শিব্বির আহমদ, সৈয়দ আনাস, সৈয়দ তালহা, সৈয়দ তানজির ও সৈয়দ নোমানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিঠিতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর হত্যা, মিথ্যা মামলা, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
চিঠির শেষে ‘সচেতন যুব সমাজ’ নামে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে লেখা রয়েছে, ‘চিঠির সঙ্গে অগ্রিম কাফনের কাপড়ের নমুনা পাঠালাম, বাকিটা কিনে রাখিস।’
ঘটনার পর মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকেও অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে চিঠি প্রেরণকারীকে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
আদাঐর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শফিকুর রহমান শফিক বলেন, চেয়ারম্যানের নামে আসা পার্সেল খোলার পর সেখানে একাধিক হুমকিমূলক চিঠি ও কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মীর খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি জেনে-শুনে কারও কোনো ক্ষতি করিনি। কারও কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে সরাসরি এসে বলতে পারে। এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।’
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। পার্সেল ও চিঠিটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চিঠিটি নবীগঞ্জ থেকে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
