রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে একটি অভিজাত রেস্তোরাঁর কাছে এক নারীর বহন করা হাতে তৈরি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রতিবেদনে হামলাটির সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা বলা হলেও, এ বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে কুদ্রিনস্কায়া স্কয়ারে মস্কোর স্টালিন আমলের সাতটি সুউচ্চ ভবনের একটির কাছে অবস্থিত একটি ইতালীয় রেস্তোরাঁর সামনে বিস্ফোরণটি ঘটে।
রাশিয়ার জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি (এনএকে) জানিয়েছে, এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী হাতে তৈরি বিস্ফোরক বহন করে রেস্তোরাঁয় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তবে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে বাধা দেন। এরপর ঘটে বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে ওই নারী, নিরাপত্তাকর্মী এবং বালজি রসি নামের ইতালীয় রেস্তোরাঁটির একজন গ্রাহক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তবে রোববার (২ আগস্ট) রুশ গণমাধ্যম আরইএন টিভি একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হাসপাতালে নেয়া দুই ব্যক্তি পরে আহত অবস্থায় মারা গেছেন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে সরকারি কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে যোগসূত্রের জল্পনা
রোববার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং হামলার জন্য দায়ীদের শাস্তি দেয়া হবে বলেও জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গতকাল মস্কোয় একটি নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।’
তবে কর্তৃপক্ষ এখনো নিহত বা আহতদের পরিচয় কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না করা কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই কমান্ডার অক্ষত আছেন বলে জানিয়েছে মস্কো।
ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পর দেশটি এ বছর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে, যার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনকে দায়ী করে আসছে।
২০২৩ সালের হামলার সঙ্গে মিল
সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ধরন ২০২৩ সালে চালানো একটি বোমা হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ওই হামলায় রাশিয়ার যুদ্ধসমর্থক ব্লগার ভ্লাদলেন তাতারস্কি নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায়ে দারিয়া ত্রেপোভা নামের এক তরুণীকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি একটি মূর্তির ভেতরে লুকানো বোমা নিয়ে গিয়েছিলেন, যা তাতারস্কির হাতে বিস্ফোরিত হয়।
ত্রেপোভা দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনে অবস্থানরত এক ব্যক্তির নির্দেশে তিনি কাজটি করেছিলেন এবং ওই ব্যক্তি তাকে অর্থও পাঠিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার দায় স্বীকারও করেননি, আবার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকারও করেননি।
