পঞ্চগড়ে ভাতার তালিকায় মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করেছেন আব্দুল খালেক নামের এক বিএনপি নেতা। পরে সাংগঠনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে অব্যাহিত দেওয়া হয়। আব্দুল খালেক পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মোলানি পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সানি ইমাম হাসনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পেরে মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। তাকে কমিটির পক্ষ থেকে তালিকায় তার নাম পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন হাসনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে মসজিদের চাবি ফেরত চান। পরে তিনি জানতে পারেন, তার নাম বাদ দিয়ে তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী হাসনুর রশিদের দাবি, মসজিদের দুই মুসল্লি আব্দুল খালেক ও আইবুল হক তার নাম তালিকাভুক্তির জন্য প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা দিলেই তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন হাসনুর রশিদ। অভিযোগে তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের বিএনপি পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির নেতারা সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সোমবার (১০ আগস্ট) আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবু সই করা সাময়িক অব্যাহতি পত্রে বলা হয়, আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমার কাছে ইমাম মুয়াজ্জিনের তালিকা চাওয়া হয়। তবে মুয়াজ্জিন হাসনুর রশিদকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আগেই বাদ দেওয়া হয়। তবে তিনি আমাকে জানান, তাকে নিয়োগ দিলে মসজিদে ৩০ হাজার হাজার টাকা দেবেন। পরে তাকে নিয়োগ না দেওয়ায় তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

