আকাশে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর বিশেষ অবস্থানে ঘটে যাওয়া সূর্যগ্রহণ স্রেফ মহাজাগতিক রূপসৌন্দর্য নয়, এটি বিজ্ঞানীদের কাছেও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বুধবার (১২ আগস্ট) উত্তর গোলার্ধের এক বিস্তৃত অঞ্চল থেকে বিরল এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করছেন বিশ্ববাসী। নাসার তথ্য ও বিবিসির পর্যালোচনার ভিত্তিতে সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ১১টি অজানা ও চমকপ্রদ তথ্য।
১. মহাজাগতিক আকারের অদ্ভুত মেলবন্ধন
সূর্য চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বড় হলেও এটি পৃথিবী থেকে চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থিত। এই বিশেষ দূরত্বের কারণেই পৃথিবী থেকে দুটিকে আকাশে প্রায় একই আকারের মনে হয় এবং চাঁদ সহজেই পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে।
২. গ্রহণের প্রধান চার রূপ
সূর্যগ্রহণ মূলত চার ধরনের হতে পারে: পূর্ণ, আংশিক, বলয়গ্রাস এবং হাইব্রিড। বলয়গ্রাস গ্রহণের সময় চাঁদের চারপাশে সূর্যের উজ্জ্বল অংশ রিং বা বলয়ের মতো দেখা যায়, যাকে বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’।
৩. উন্মোচিত হয় রহস্যময় ‘করোনা’
সূর্যের সবচেয়ে বাইরের বায়ুমণ্ডলকে বলা হয় ‘করোনা’। স্বাভাবিক সময়ে সূর্যের অতিরিক্ত আলোর কারণে এটি দেখা যায় না। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় এটি দৃশ্যমান হয়, যা দেখতে সাদা আলোর মুকুটের মতো লাগে।
৪. পৃষ্ঠের চেয়ে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেশি
সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের (ফটোস্ফিয়ার) তাপমাত্রা যেখানে প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে তার বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনার তাপমাত্রা প্রায় ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। কেন বায়ুমণ্ডল পৃষ্ঠের চেয়ে এত গরম, তা সৌরবিজ্ঞানের অন্যতম বড় রহস্য।
৫. তাৎক্ষণিক তাপমাত্রা পতন
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় যে পথ দিয়ে চাঁদের ছায়া যায়, সেখানে দিনের আলো দ্রুত কমে আসার পাশাপাশি তাপমাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
৬. প্রাণিজগতে বিভ্রান্তি
হঠাৎ আলো কমে দিন রাতের রূপ নেওয়ায় পশুপাখিরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পাখিরা সান্ধ্যকালীন ভেবে দ্রুত বাসায় ফিরতে শুরু করে এবং নিশাচর প্রাণীরা সময় হওয়ার আগেই বের হয়ে আসে।
৭. দিনের আকাশে নক্ষত্রের উদয়
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় অন্ধকারের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে সাধারণ সময়ে দিনের আলোয় না দেখা যাওয়া একাধিক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গ্রহ খালি চোখে দেখা যায়।
৮. স্থায়িত্বকাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত
একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি দেখা যায় না। যেমন আজকের ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ স্থানেই পূর্ণগ্রহণের স্থায়িত্ব দুই মিনিটেরও কম।
৯. বিরল নয়, তবে স্থানভেদে দুর্লভ
পৃথিবীতে প্রতিবছর সাধারণত দুই থেকে তিনটি সূর্যগ্রহণ ঘটে থাকে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পৃথিবীর একই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বারবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
১০. বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মূল হাতিয়ার
সূর্যগ্রহণ স্রেফ দেখার বিষয় নয়। শত বছর ধরে সূর্যগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা সূর্যের উপাদান, করোনা এবং সৌরবায়ুর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।
১১. খালি চোখে দেখা চরম বিপজ্জনক
আংশিক বা পূর্ণ যেকোনো সূর্যগ্রহণের আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস চোখে দিয়ে এটি দেখা নিরাপদ নয়; এর জন্য বিশেষ সোলার ফিল্টার বা সার্টিফাইড গ্রহণ দেখার চশমা ব্যবহার করা আবশ্যক।

