স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে নেপাল। আকস্মিক এ বন্যায় এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে তিনশোর বেশি মানুষ। সেইসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
পুরো নেপাল যখন ভয়াবহ এ বিপর্যয় সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই আরও এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা এসেছে চীন থেকে। দেশটি বলেছে, নেপালে হঠাৎ এমন একটি কৃত্রিম লেক তৈরি হয়েছে, যা উপচে পড়ে যে কোনও সময় আঘাত হানতে পারে নতুন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নেপাল নিউজ ও কাঠমান্ডু পোস্ট।
চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে প্রতিবন্ধক হ্রদটি তৈরি হয়েছে। বাধাটি ভেঙে গেলে আটকে থাকা বিপুল পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সৃষ্ট কৃত্রিম লেকটি ইতোমধ্যে পানিতে ভরে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লেকটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল বলে হিসাব করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আগামী তিন দিনে এতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে।
তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে নতুন লেকটি তৈরি হয়েছে। এই লেকের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সম্ভাব্য বন্যা হলে কী হতে পারে, সেটি নিরূপণ এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
ছোচেন খোলা এভং পুরেপু সাংপো নদীর উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের আগে নদীগুলো একত্রিত হয়ে গেছে, যা নেপালে ভোটেকোশি নদী নামে পরিচিত। আর ভোটেকোশি হলো ত্রিশূলি নদীর প্রধান ঊর্ধ্ব শাখা নদী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এই ভোটেকোশি নদীতেই ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটে। এ সময় নদীর আশপাশে যত নিচু অঞ্চল ছিল তার সবখানেই পানি ও কাঁদা প্রবেশ করে। বন্যার পানির মাঝখানে যেসব অবকাঠামোই পড়েছিল তার সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। আকস্মিক এ বন্যায় এখনও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নিহতের সংখ্যা সাড়ে তিনশো ছাড়ানোর পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এমন ভয়াবহতার মাঝেই এবার আরেকটি মহাবিপদ এসে দাঁড়ালো নেপালের সামনে।

