মাঝরাতে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলে তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার রহস্যময় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ আলোচিত সেই মোটরসাইকেলটির (ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪) রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই ভুয়া বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
সন্দেহজনক এই দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাননি। পরে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটসহ স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
টঙ্গী পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের অসংগতি ও মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্টে দাবি করা হয়, মেয়েটি উত্তরার একটি বারে মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি দেখেছেন।
ওই আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়, ‘এই মেয়েটা উত্তরায় একটি বারে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়। আমি ওই বারে ছিলাম। তাই বিষয়টি জানি।’
এই দাবি নিয়ে কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সন্দেহ প্রকাশ করলে আইডি থেকে পাল্টা রিপ্লাই দিয়ে বলা হয়, ‘এটা আজকের ঘটনা। আমি ড্রেস দেখে মেয়েটিকে চিনেছি। আমি শিওর হওয়ার পর আমার বন্ধুদের দেখালাম। ওরাও শিওর হলো যে ওই মেয়েটাই।’
‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের ওই ফেসবুক আইডির দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এছাড়া মোটরসাইকেল মালিকের আসল ঠিকানা এবং পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
‘অচেতন’ তরুণীকে বহন করা চালককে খুঁজছে পুলিশ
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী মহাসড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝখানে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় বহনের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যময় এই ঘটনার কিনারা করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণীর খালি পা নিচের দিকে ঝুলছিল এবং পেছনের যুবক তাকে শক্ত করে ধরে রাখেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মাদরাসাতুল মাদিনা, বগুড়ার পরিচালক মুফতি মনোয়ার হোসেন প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি জানান, উমরাহ শেষে বগুড়া ফেরার পথে ঢাকা থেকে টঙ্গীগামী মহাসড়কে এই দৃশ্য দেখে তিনি বেশ কিছু ছবি তোলেন। তার ভাষ্যমতে, রাত ৩টার দিকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পার হয়ে মোটরসাইকেলটিকে নজরদারিতে রাখা হয়। মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি হয় অচেতন, না হয় মৃত।
বিষয়টি জানাতে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ না পাওয়ায় তিনি ফেসবুকে ছবিগুলো শেয়ার করেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাটি দেখেছেন বলে ওই পোস্টে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটির তথ্য পাওয়ার পরপরই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়েছে। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট যাচাই করে বাইক আরোহীদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ আলোচিত সেই মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪। এই রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই ভুয়া বলে ধারণা করছে পুলিশ। আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে। এদিকে ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্টে দাবি করা হয়, মেয়েটি উত্তরার একটি বারে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি দেখেছেন। ওই আইডি থেকে আরও বলা হয়, ‘এই মেয়েটা উত্তরায় একটি বারে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়। আমি ওই বারে ছিলাম। তাই বিষয়টি জানি।’ তার এই দাবির বিষয়ে কয়েকজন সন্দেহ প্রকাশ করলে রিপ্লাই দিয়ে বলা হয়, ‘এটা আজকের ঘটনা। আমি ড্রেস দেখে মেয়েটিকে চিনেছি। আমি শিওর হওয়ার পর আমার বন্ধুদের দেখালাম। ওরাও শিওর হলো যে ওই মেয়েটাই।’ তবে ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের ওই ফেসবুক আইডির দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘অচেতন’ তরুণীকে বহন করা চালককে খুঁজছে পুলিশ
কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক খুন, আটক যুবকেরও মৃত্যু
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। পরে আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হলে সকালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে এবং ওই যুবকরা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সোলাইমানকে স্থানীয় লোকজন মারধরের পর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

