গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গভীর রাতে তরুণীর ঘরে আটক হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মোহা. মাহফুজ সরকার রাকিব। তিনি দাবি করেছেন, ওই রাতে বিয়ের আলোচনাই চলছিল এবং পরদিন পারিবারিকভাবে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) বিকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হোসেনপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ সরকার রাকিব লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গত ৩ জুলাই উভয় পক্ষের সম্মতিতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে তাঁর বিবাহ ঠিক হয়। এর আগে ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার তাঁর শ্বশুরপক্ষ তাদের বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বেই উভয় পরিবারের সম্মতিতে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়।
তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পারিবারিক আলোচনার একটি অংশ গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাঁকে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের যে কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি জানান, ওই রাতে তিনি শ্বশুরপক্ষের আমন্ত্রণে বিয়ের আলোচনা করতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরদিন সকালে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
মাহফুজ সরকার রাকিব তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মানকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার না করে সত্য উদ্ঘাটনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন এবং সব ধরনের অপপ্রচার থেকে দূরে থাকুন।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাহফুজ সরকার রাকিবকে ৩১ জুলাই দিবাগত রাতে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ঘোলদহ সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে জুঁই আক্তারের ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন স্থানীয়রা। পরে এলাকাবাসী ও ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁর সাথে ওই তরুণীর বিবাহ সম্পন্ন হয় বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। অনেকে এই ঘটনাকে ছাত্রসংগঠনের নৈতিক পতনের উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছিলেন। আবার কেউ কেউ ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
মাহফুজ সরকার রাকিবের সংবাদ সম্মেলনের পর তাঁর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করেছেন। তারা দাবি করছেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও ভাইরাল করে তাঁর সম্মানহানি করছে।
এদিকে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দুরুল হুদা জানান, এ বিষয়ে কারও কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ কাজ করছে। তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হবে।
ঘটনার পর থেকে মাহফুজ সরকার রাকিব তাঁর শ্বশুরপক্ষের সাথে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই তিনি সেখানে আছেন এবং অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।
এই ঘটনার সত্যতা যাচাই ও ঘটনা সম্পর্কে জানতে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা সালুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে আটক ও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাঁর দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে তিনি জানিয়েছিলেন, ওই তরুণীর সাথে মাহফুজের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
