শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আন্দোলনের লাগাম টানতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ পর্যন্ত মেনে নিতে হয় দলটিকে। সেই ধাক্কা সামাল দেয়ার আগেই এবার তিন রাজ্যের তিনটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে দলটি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
এর মধ্যে বিহারের যে আসনে কখনও হারেনি বিজেপি, সেই বাঁকিপুরে মুখ থুবড়ে পড়েছে তারা। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহা হারতে চলেছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের কাছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল চারটা পর্যন্ত আসা ফল অনুযায়ী, প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে প্রশান্ত ২৯ রাউন্ডের ভোটগণনা শেষে ১৯ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী নীরাজ কুমার সিনহা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী কোনও লড়াই-ই দিতে পারেননি। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার।
উপনির্বাচনে বাঁকিপুরের মতো বিজেপি মুখ পোড়াল মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনও। এটি কংগ্রেসের দখলে থাকলেও বিজেপি নেতৃত্ব তা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছেন কংগ্রেসের কাছে। বিকেল চারটায় কংগ্রেসের প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং এগিয়ে রয়েছেন ৯ হাজার ভোটে।
নিজেদের ঘাঁটি গুজরাটে কিছুটা মান বেঁচেছে বিজেপির। সেখানকার মঞ্জলপুর আসনে আগের নির্বাচনে তারা লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। তবে আজ উপনির্বাচনে তারা মোটে ২৭ হাজার ভোটে এগিয়ে আছে। তাই এই নির্বাচনে ভোটসংখ্যায় এমন পতনের বিষয়টি বিজেপির জন্য বড় চিন্তার কারণ।
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উত্থান এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর প্রথম নির্বাচনগুলোতে এককথায় সুবিধা করতে পারল না ক্ষমতাসীন বিজেপি। শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তিপ্রয়োগের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই ব্যালটে প্রকাশ পেল কি না তা-ই এখন ভেবে দেখতে হবে মোদি-শাহদের।
