বিদেশে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনকি বিদেশে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হলে তা ঠেকাতে ইসরায়েলের ‘বিশেষ বাহিনী’ প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মার্কিন ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি।
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। তবে আইসিসির ১২৪টি সদস্য দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ রয়েছে, সেখানে নেতানিয়াহু প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক শন হ্যানিটি নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করেন, বিদেশ সফরের সময় কোনো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এবং আইসিসির এখতিয়ার রয়েছে এমন কোনো দেশে তাকে অবতরণ করা হলে সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না।
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি এটা নিয়ে ভাবি। আপনি জানেন, আমাদের বিশেষ বাহিনী আছে। আমি পাঁচ বছর সেখানে কাজ করেছি।’ এরপর হ্যানিটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ‘খুবই কঠোর ও শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘চলুন তাদের একটি নতুন কাজ দেয়া যাক।’
এছাড়া নেতানিয়াহু জানান, নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা তিনি বাতিল করছেন না। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, আমি নিউইয়র্কে যাচ্ছি। আমি এই ঘৃণা-ছড়ানো নির্বাচিত কর্মকর্তার (মামদানি) সামনে সত্য কথা বলব। তিনি নিউইয়র্কের একদল মানুষকে অন্য দলের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছেন। তিনি তাদের নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন। এর মানে, আমরা কি ১৯৩০-এর দশকে আছি? এত ঘৃণা! এত মিথ্যা!’
২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এতে তাকে গাজায় ‘যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার’ এবং ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার’ জন্য দায়ী করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত সময়কালে হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মেয়র মামদানি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর হেগে থাকা উচিত। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক মানুষ একই মত পোষণ করেন।’
পরে মামদানি স্পষ্ট করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার এখতিয়ার নিউইয়র্ক শহরের নেই। তবে তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হবে না।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে লড়ছেন, যারা সম্প্রতি ৫২ হাজার নিরীহ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে আমেরিকান সেনা ও অন্যদের হত্যা করে আসছে। কেবলমাত্র তারাই গ্রেপ্তার হওয়ার যোগ্য, যারা ইরানকে এই নজিরবিহীন মৃত্যু ও ধ্বংসের আবর্তে টেনে নিয়ে গেছে; যা পূর্ববর্তী শাসকদের বহু বছর আগেই সমাধান করা উচিত ছিল!’
