বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বাক্য ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল—‘পোস্ট ডিলিট করো, সমস্যা হবে’। অভিযোগ ছিল, আন্দোলনের পক্ষে বা সরকারের সমালোচনায় দেওয়া পোস্ট সরাতে অনেককে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এবার ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অনেকটা একই ধরনের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছেন ওড়িশার ভুবনেশ্বরের বিজেপি সংসদ সদস্য অপরাজিতা সারঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা সচিন রাহা। তার পোস্ট ঘিরে বিজেপির অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (২৫ জুলাই), যখন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর অর্চিতা তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই খবর শেয়ার করেন। তবে দলীয় মহলে এই পোস্ট নিয়ে আপত্তি ওঠে।
বিজেপির কয়েকজন নেতা মনে করছেন, দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার কঠিন সময়ে এমন পোস্ট রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যোগাযোগের পর সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীকে পোস্টটি সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
তবে অর্চিতা সেই অনুরোধে সাড়া দেননি। পরে আরেকটি পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, এর আগেও তার মায়ের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সরানোর অনুরোধ এসেছিল। কিন্তু এবার তিনি পোস্ট মুছে ফেলবেন না।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন অপরাজিতা সারঙ্গী। সেখানে তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতি নিজের সমর্থন ও আস্থার কথা জানান।
সাংসদের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্চিতা তরুণ প্রজন্মের একজন সদস্য এবং নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা তার রয়েছে।
তবে ভুবনেশ্বরের বিজেপির স্থানীয় নেতাদের একটি অংশ বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলার দৃষ্টিতে দেখছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলের নেতাদের পাশে থাকা এবং প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
ঘটনাটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দলীয় শৃঙ্খলা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক চাপের বিষয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

