রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রেম, বন্ধুত্ব ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আদায় করছে সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র। সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর, ঢাকা ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এমন একাধিক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতারকরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে নির্জন স্থানে দেখা করার প্রলোভন দিয়ে গোপনে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে। অনেক ক্ষেত্রে মারধর, অপহরণ ও জোরপূর্বক অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে এমন একটি ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে দিনাজপুরে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাজধানীতেও একই ধরনের অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হওয়া, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা এবং পরিচয় যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকলে এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কোনো ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক যোগাযোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকাই ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের প্রতারণা থেকে রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
