রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। আজ দুপুরে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন তা নিয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শীর্ষে রাখা হচ্ছে। তিনি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।
দলীয় সূত্র মতে, কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে সবচেয়ে যোগ্য বিবেচনা করা হচ্ছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ইতিবাচক মনোভাব এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতি তাকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় আনুগত্য এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, আপাতত একটি নামই সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং বিকল্প ভাবা হচ্ছে না।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে অথবা একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ তার মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি নেই এবং এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

