চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রাম ও রাউজান এলাকায় অপরাধচক্র পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ইমন একসময় সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার ছিলেন। বাঁহাতি লেগ স্পিনার হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতেন এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নেট অনুশীলনেও বল করতেন। তবে ২০২০ সালের পর তিনি ক্রিকেট থেকে সরে যান।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি পাসের পর কলেজে ভর্তি হলেও এইচএসসি পরীক্ষা দেননি ইমন। করোনাকালের পর ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২২ সালে ওমানে গেলেও বছরখানেক পর দেশে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হন।
পুলিশের ভাষ্য, এরপরই তিনি বড় সাজ্জাদের অপরাধচক্রে যুক্ত হয়ে চাঁদাবাজি, হত্যা ও সশস্ত্র হামলাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে জোড়া খুন, হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন তিনি। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে।
সন্ত্রাসের পথে কেন এসেছেন—এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশের কাছে ইমন বলেছেন, “ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, না হয় বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।”
পুলিশের দাবি, যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের কয়েক দিন পর পুনরায় ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
